হা‌দিস নম্বরঃ 6939

সহীহ বুখারী (তাওহীদ), ৮৮/ আল্লাহ্দ্রোহী ও ধর্মত্যাগীদেরকে তাওবাহর প্রতি আহবান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা৬৯৩৯. একজন রাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কারণে আবূ ‘আবদুর রহমান ও হিববান ইবনু আতিয়্যার মাঝে ঝগড়া বাধে। আবূ ‘আবদুর রহমান হিববানকে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, কোন্ বিষয়টি আপনার সাথীকে রক্তপাতে দুঃসাহস জুগিয়েছে। সাথী, অর্থাৎ ‘আলী (রাঃ)। সে বলল, সে কী! তোমার পিতা জীবিত না থাকুক। আবূ ‘আবদুর রহমান বলল, তা ‘আলী (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। হিববান বলল, সে কী? আবদুর রহমান বলল, যুবায়র, আবূ মারছাদ এবং আমাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠালেন। আমরা সকলেই অশ্বারোহী ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা রওযায়ে হাজ পর্যন্ত যাবে। আবূ সালামাহ (রহ.) বলেন, আবূ আওয়ানা (রহ.) সেরকমই বলেছেন। সেখানে একজন মহিলা আছে, যার কাছে হাতিব ইবনু আবূ বাল্তা‘আ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে (মক্কার) মুশরিকদের কাছে পাঠানো একখানা চিঠি আছে। তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। আমরা আমাদের ঘোড়ায় চড়ে রওনা দিলাম। অবশেষে আমরা তাকে ঐ জায়গায় পেলাম যে জায়গার কথা আমাদের রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন। সে তার উটে চলছে। আবূ বালতা‘আ (রাঃ) মক্কাবাসীদের কাছে তাদের দিকে রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওনা হওয়ার সংবাদ জানিয়ে পত্র লিখেছেন। আমরা বললাম, তোমার সঙ্গে যে পত্র আছে তা কোথায়? সে বলল, আমার সঙ্গে কোন পত্র নেই। আমরা তার উটকে বসালাম এবং তার হাওদায় খুঁজলাম। কিন্তু কিছুই পেলাম না। তখন আমার সাথী দু’জন বলল, তার সঙ্গে তো আমরা কোন পত্র দেখছি না। আমি বললাম, আমরা অবশ্যই জানি যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেননি। তারপর ‘আলী (রাঃ) এই ব’’ল কসম করে বললেন, ঐ সত্তার কসম! যাঁর নামে কসম করা হয়, অবশ্যই তোমাকে চিঠি বের করে দিতে হবে। নইলে তোমাকে উলঙ্গ করে ফেলব। তখন সে তার চাদর বাঁধা কোমরের প্রতি দৃষ্টি দিল এবং (সেখান থেকে) চিঠিটি বের করে দিল। তারা চিঠিটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হাজির হলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের সঙ্গে খিয়ানত করেছে। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেনঃ হে হাতিব! এ কাজে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কেন আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখব না। আসল কথা হল, আমি চাচ্ছিলাম যে, মক্কা্বাসীর প্রতি আমার দ্বারা অনুগ্রহের কাজ হোক যার বিনিময়ে আমার পরিবারবর্গ ও মাল ধন রক্ষা পায়। আপনার

 

সঙ্গীদের সকলেরই সেখানে নিজ গোত্রীয় এমন লোক আছে, যাদের মাধ্যমে আল্লাহ্ তার পরিবারবর্গ ও মাল ধন রক্ষার ব্যবস্থা করবেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে ঠিকই বলেছে। কাজেই তোমরা তার সম্পর্কে ভালো ব্যতীত মন্দ কোন কথা বলো না। বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমার (রাঃ) পুনরায় বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের সঙ্গে খিয়ানত করেছে। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। তিনি বললেন, সে কি বাদ্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী নয়? তুমি কী করে জানবে আল্লাহ্ তাদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেছেনঃ তোমরা যা ইচ্ছে কর, তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত করে দিয়েছি। এ কথা শুনে ‘উমার (রাঃ)-এর দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন।[1] [৩০০৭]

আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেন, خَاخٍ সবচেয়ে বিশুদ্ধ। তবে আবূ আওয়ানা (রহ.) অনুরূপ حَاجٍ বলেছেন, আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [বুখারী (রহ.)] বলেছে خََاجٍ বিকৃতি। আর এটি একটি স্থান। হুশায়ম (রহ.) خَاخٍ বলেছেন। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৪৫৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৪৭০)

Narrated: Abu `Abdur-Rahman and Hibban bin ‘Atiyya had a dispute. Abu `Abdur-Rahman said to Hibban, “You know what made your companions (i.e. `Ali) dare to shed blood.” Hibban said, “Come on! What is that?” `Abdur-Rahman said, “Something I heard him saying.” The other said, “What was it?” `AbdurRahman said, “`Ali said, Allah’s Messenger (ﷺ) sent for me, Az-Zubair and Abu Marthad, and all of us were cavalry men, and said, ‘Proceed to Raudat-Hajj (Abu Salama said that Abu ‘Awana called it like this, i.e., Hajj where there is a woman carrying a letter from Hatib bin Abi Balta’a to the pagans (of Mecca). So bring that letter to me.’ So we proceeded riding on our horses till we overtook her at the same place of which Allah’s Messenger (ﷺ) had told us. She was traveling on her camel. In that letter Hatib had written to the Meccans about the proposed attached of Allah’s Messenger (ﷺ) against them. We asked her, “Where is the letter which is with you?’ She replied, ‘I haven’t got any letter.’ So we made her camel kneel down and searched her luggage, but we did not find anything. My two companions said, ‘We do not think that she has got a letter.’ I said, ‘We know that Allah’s Messenger (ﷺ) has not told a lie.'” Then `Ali took an oath saying, “By Him by Whom one should swear! You shall either bring out the letter or we shall strip off your clothes.” She then stretched out her hand for her girdle (round her waist) and brought out the paper (letter). They took the letter to Allah’s Messenger (ﷺ). `Umar said, “O Allah’s Messenger (ﷺ)! (Hatib) has betrayed Allah, His Apostle and the believers; let me chop off his neck!” Allah’s Messenger (ﷺ) said, “O Hatib! What obliged you to do what you have done?” Hatib replied, “O Allah’s Messenger (ﷺ)! Why (for what reason) should I not believe in Allah and His Apostle? But I intended to do the (Mecca) people a favor by virtue of which my family and property may be protected as there is none of your companions but has some of his people (relatives) whom Allah urges to protect his family and property.” The Prophet (ﷺ) said, “He has said the truth; therefore, do not say anything to him except good.” `Umar again said, “O Allah’s Messenger (ﷺ)! He has betrayed Allah, His Apostle and the believers; let me chop his neck off!” The Prophet (ﷺ) said, “Isn’t he from those who fought the battle of Badr? And what do you know, Allah might have looked at them (Badr warriors) and said (to them), ‘Do what you like, for I have granted you Paradise?’ ” On that, `Umar’s eyes became flooded with tears and he said, “Allah and His Apostle know best.”

مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ فُلاَنٍ قَالَ تَنَازَعَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمٰنِ وَحِبَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ فَقَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمٰنِ لِحِبَّانَ لَقَدْ عَلِمْتُ مَا الَّذِي جَرَّأَ صَاحِبَكَ عَلَى الدِّمَاءِ يَعْنِي عَلِيًّا قَالَ مَا هُوَ لاَ أَبَا لَكَ قَالَ شَيْءٌ سَمِعْتُهُ يَقُولُهُ قَالَ مَا هُوَ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَالزُّبَيْرَ وَأَبَا مَرْثَدٍ وَكُلُّنَا فَارِسٌ قَالَ انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ حَاجٍ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ هَكَذَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ حَاجٍ فَإِنَّ فِيهَا امْرَأَةً مَعَهَا صَحِيفَةٌ مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى الْمُشْرِكِينَ فَأْتُونِي بِهَا فَانْطَلَقْنَا عَلَى أَفْرَاسِنَا حَتَّى أَدْرَكْنَاهَا حَيْثُ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَسِيرُ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا وَقَدْ كَانَ كَتَبَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ بِمَسِيرِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْهِمْ فَقُلْنَا أَيْنَ الْكِتَابُ الَّذِي مَعَكِ قَالَتْ مَا مَعِي كِتَابٌ فَأَنَخْنَا بِهَا بَعِيرَهَا فَابْتَغَيْنَا فِي رَحْلِهَا فَمَا وَجَدْنَا شَيْئًا فَقَالَ صَاحِبَايَ مَا نَرَى مَعَهَا كِتَابًا قَالَ فَقُلْتُ لَقَدْ عَلِمْنَا مَا كَذَبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ حَلَفَ عَلِيٌّ وَالَّذِي يُحْلَفُ بِهِ لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لأُجَرِّدَنَّكِ فَأَهْوَتْ إِلَى حُجْزَتِهَا وَهِيَ مُحْتَجِزَةٌ بِكِسَاءٍ فَأَخْرَجَتْ الصَّحِيفَةَ فَأَتَوْا بِهَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ خَانَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ دَعْنِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَا حَاطِبُ مَا حَمَلكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ مَا لِي أَنْ لاَ أَكُونَ مُؤْمِنًا بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَلَكِنِّي أَرَدْتُ أَنْ يَكُونَ لِي عِنْدَ الْقَوْمِ يَدٌ يُدْفَعُ بِهَا عَنْ أَهْلِي وَمَالِي وَلَيْسَ مِنْ أَصْحَابِكَ أَحَدٌ إِلاَّ لَهُ هُنَالِكَ مِنْ قَوْمِهِ مَنْ يَدْفَعُ اللهُ بِهِ عَنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ قَالَ صَدَقَ لاَ تَقُولُوا لَهُ إِلاَّ خَيْرًا قَالَ فَعَادَ عُمَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ خَانَ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالْمُؤْمِنِينَ دَعْنِي فَلِأَضْرِبْ عُنُقَهُ قَالَ أَوَلَيْسَ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللهَ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ أَوْجَبْتُ لَكُمْ الْجَنَّةَ فَاغْرَوْرَقَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ خَاخٍ أَصَحُّ وَلَكِنْ كَذَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ حَاجٍ وَحَاجٍ تَصْحِيفٌ وَهُوَ مَوْضِعٌ وَهُشَيْمٌ يَقُولُ خَاخٍ

Advertisements
This entry was posted in 88. আল্লাহ‌দ্রোহী ও ধর্মত্যাগকারী‌দেরকে তওবাহর প্র‌তি আহবান(৬৯১৮-৬৯৫১). Bookmark the permalink.